প্রাচীন গ্রীসের রাষ্ট্রচিন্তা উদ্ভব ও বিকাশ

 

প্রাচীন গ্রীসের রাষ্ট্রচিন্তা উদ্ভব ও বিকাশ



ভূমিকাঃ

        রাষ্ট্রচিন্তার সূত্রপাত সম্পর্কে বিতর্ক থাকলেও সুসংবদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তা বলতে যা বোঝায় তার সূচনা হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসেই। রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, নাগরিক প্রভৃতি ধারণা গ্রিক রাষ্ট্রচিন্তার পূর্বেই বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠলেও মূলত গ্রিকরাই এই ধারণাগুলিকে প্রথম অর্থবহ এবং রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলেন।

রাষ্ট্রচিন্তার পঠভূমিঃ

        আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গ্রিস দেশে রাষ্ট্রচিন্তার সূচনা হয়। গ্রিকদের কৌতূহলী মনোভাব, বাস্তবতার প্রতি আগ্রহ, প্রজ্ঞা ও যুক্তির প্রতি আস্থা এবং সমালোচনার মনোভাব ও মানসিকতা প্রভূতি প্রাচীন গ্রীসে রাষ্ট্রচিন্তার উন্মেষের এক অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলেছিল। প্রাচীন গ্রীসের রাষ্ট্রচিন্তার এই পর্বটিকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে। এগুলি হল-


সফিস্ট পূর্ব রাষ্ট্রচিন্তাঃ

        হোমার ও হেসিয়ড এর সাহিত্যে প্রাচীন গ্রিসের রাজনৈতিক সংগঠনের কিছু পরিচয় পাওয়া যায়। ডেলফির বাণী গ্রিকদের নীতিবোধকে অনুপ্রাণিত করেছিল। প্রাচীন গ্রিসের রাজনৈতিক চিন্তা 'সপ্তপ্রাজ্ঞ' এর ভাবধারার দ্বারা পরিপুষ্টি লাভ করেছিল। সমাজে যাতে কোনোরূপ অশান্তি দেখা না দেয়, সেজন্য সপ্তপ্রাজ্ঞ সব সময় মধ্যপন্থা অবলম্বনের সুপারিশ করতেন। থালেস, সোলন, পিথাগোরাস, হেরাক্লিটাস প্রমুখ পণ্ডিত সফিস্ট-পূর্ব রাষ্ট্রচিন্তার সূচনা করেন। সোলোন গ্রিকরাষ্ট্রে সামাজিক সমতার ধারণাটি জনপ্রিয় করে তোলেন। গ্রিক রাষ্ট্রচিন্তায় ন্যায়ের যে-প্রাধান্য আমরা প্রত্যক্ষ করি, তার নির্মিতি অনেকখানি পিথাগোরাসের হাতেই ঘটেছিল।


সফিস্ট রাষ্ট্রচিন্তাঃ

প্রাচীন গ্রিসের রাষ্ট্রচিন্তাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল সফিস্ট দার্শনিকদের চিন্তাধারা। সফিস্টরা ছিলেন এক শ্রেণির যুক্তিবাদী পন্ডিত। তাঁরা ছিলেন ভ্রাম্যমাণ শিক্ষক। তাঁরা ব্যক্তিস্বাধীনতার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন এবং অসম সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনকেই সামাজিক সংকট নিরসনের উপায় বলে চিহ্নিত করেন। প্রোটাগোরাস, অ্যান্টিফোন, প্রোডিকাস, হিপ্পিয়াস, জর্জিয়াস, থ্রেসিমেকাস প্রমুখ হলেন সফিস্ট দার্শনিক।


সফিস্ট পরবর্তী রাষ্ট্রচিন্তাঃ

সফিস্টদের পরবর্তীকালে সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল প্রমূখ তাত্ত্বিক গ্রিক রাষ্ট্রচিন্তার কাঠামো গড়ে তোলেন। সক্রেটিসের জ্ঞানের সার্বভৌমিকতার তত্ত্ব গ্রিক রাষ্ট্রচিন্তার মূল ধারাটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সক্রেটিসের আদর্শে বিশেষভাবে প্রভাবিত হন প্লেটো। প্লেটোর ন্যায়নীতি, আদর্শ রাষ্ট্র, সাম্যবাদ ও দার্শনিক রাজার তত্ত্ব গ্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সংস্কারসাধনের লক্ষ্যে প্রবাহিত হয়েছিল। অ্যারিস্টটলের রাষ্ট্রতত্ত্ব, শিক্ষাতত্ত্ব, বিপ্লবতত্ত্ব, ক্রীতদাস প্রথা এবং আইন ও নাগরিকতার তত্ত্ব সর্বজনবিদিত।


অ্যারিস্টটল পরবর্তী গ্রীক রাষ্ট্রচিন্তাঃ

খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের মাঝামাঝি গ্রিস রোমান সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গ্রিক মনীষীরা রাজনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনা থেকে বিরত হয়ে ক্রমশ দর্শন-সংক্রান্ত সাধারণ সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনায় আত্মনিয়োগ করেন। এর ফলে গ্রিসে বিশুদ্ধ দর্শন আলোচনা তিনটি রূপে প্রকাশিত হয়। এগুলি হল-

১) এপিক্যুরীয় মতবাদ বা ভোগবাদ।

২) সিনিক মতবাদ বা নৈরাশ্যবাদ। এবং

৩)  স্টোইক মতবাদ বা নির্বিকারবাদ।

নতুন চিন্তাধারার সারবস্তু হল – মানুষ কেবল একজন রাজনৈতিক জীব নয়, সে একজন ব্যক্তিও বটে। এপিক্যুরীয় মতবাদ বা ভোগবাদী দর্শনের মূল প্রবক্তা ছিলেন এপিকিউরাস। সিনিক মতবাদ বা নৈরাশ্যবাদের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন অ্যান্টিসথেনিস ও ডায়োজেনিস। স্টোইক মতবাদ বা নির্বিকারবাদের প্রবক্তা হলেন জেনো।

লেখক

জগন্নাথ বর্মন
সহকারী অধ্যাপক
সিউড়ী বিদ্যাসাগর কলেজ


এই পেপারের ওপর সমস্ত নোটস


(বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সহ)

যে প্রশ্নের উত্তর দরকার 

সেই প্রশ্নের ওপর ক্লিক করো।

উত্তর পেয়ে যাবে-

যে প্রশ্নের উত্তর দরকার 

সেই প্রশ্নের ওপর ক্লিক করো।

উত্তর পেয়ে যাবে-


যে প্রশ্নের উত্তর দরকার 

সেই প্রশ্নের ওপর ক্লিক করো।

উত্তর পেয়ে যাবে-


Main Menu





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি